Header Ads

রস জাল দিয়ে গুড় বানাচ্ছে শিল্পীরা।- নিজস্ব চিত্র 
শিরোনাম ২৪ ডেস্কঃ  দিনহাটা,১৬ডিসেম্বরঃ হাড় কাপানো শীতের মধ্যেই বাঙ্গালীর পিঠে খাওয়া যার পোষাকি নাম পৌষ সংক্রান্তি । আর এই পিঠে উৎসব- খেজুর গুড় ছাড়া ভাবতে পারা যায় না। সেই কারনেই মহম্মদ আফজালদের মতো অনেকেই শীতকে উপেক্ষা করে রাত জেগে খেজুরের রস কে পরিনত করে খেজুর গুড়ে। দিনহাটা মহকুমার বিভিন্ন গ্রাম থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করে বানানো হয় খেজুরের গুড়। এই গুড় বানাতে গিয়ে কত রাত যে তাদের অনিদ্রায় কাটে তার হিসেব খদ্দের দের কেউ রাখে না। তাদের  রাত জেগে বানানো এই গুড় খদ্দেররা চায় কম দরে।এই সব কারনে কখনো  কখনো অভিমান হয় এই গুড় শিল্পীদের। অভিজ্ঞ মহলের দাবী, সভ্যতার কড়াল গ্রাসে হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর গাছ। তবে কিছু কিছু প্রত্যান্ত গ্রামে এখনো এই খেজুর গাছের দেখা পাওয়া যায়। আর যেই যেই স্থানে খেজুর গাছ রয়েছে সেখানেই পৌছে যায় এই গুড় শিল্পীরা। এই শিল্পীদের হাতেই সেখানে গরে ওঠে খেজুর পাতা দিয়ে  অস্থায়ী ঘড় যা  “খুপরি” নামে জানা যায়। সেখানে থেকে দূর দুরান্তের খেজুর গাছ গুলি থেকে রস সংগ্রহ করে তারা।
 ঘড়িতে তখন ভোর সাড়ে পাচটা  । কনকনে শীতের মধ্যে কুয়াশা ঢাকা গোটা এলাকা । তারই মধ্যে দিনহাটা মহকুমার ভারত – বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার  গিতালদহ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নিউ গিতালদহ এলাকায় সাংবাদিকিদের দল পৌছে যায় বিলুপ্ত প্রায় এই শিল্পের খবর সংগ্রহ করতে। গিয়ে দেখা যায়, শেষ রাতে সংগ্রহ করে আনা খেজুরের রসকে গুড় বানানোর প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। হাড় কাপানো শীতকে উপেক্ষা করে লম্বা  টিনের পাত্রে জাল দিয়ে চলেছে খেজুরের রস। এরই মধ্যে এক শিল্পী জানায় তাদের জীবনের কাহিনী। জানা যায়, পুরো বছরে হাতে গোনা কয়েক দিন মাত্র এই কাজ তারা করে। আর এই কয়েক দিনেইর রোজগারেই চলে কয়েক মাস।  সামান্য কিছু টাকা আয় হয় বলে এই শিল্পে আসতে চায় না ভবিষ্যত প্রজন্ম। তাদের কথায়, তেমন একটা আয় নেই এই পেশায়। তবে সরকারি সাহায্য পেলে এই শিল্প কে ভবিষ্যতে এই বাচিয়ে রাখা যাবে।

                            ***অনুমতি ছাড়া কোন খবর কপি করা যাবে না।***

No comments

Powered by Blogger.