বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি সাহায্য ঃ সংকটের মধ্য দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন প্রয়াত ধরনী বাবুর স্ত্রী
মৃত ধরনী বাবুর পরিবারের সদস্য সদস্যারা
শিরোনাম২৪ ডেস্ক,দিনহাটা ঃমোদী সরকারের এই নোট বন্দীর সিদ্ধান্তের ফলে দিনহাটায় মৃত্যু হয়েছিল হয়েছিল এক স্কুল শিক্ষকের তার নাম ধরণী কান্ত রায় । এই মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি কোনো রকম সরকারি সুযোগ সুবিধা । কোনোরকমে আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে সংসার চালোনোর পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন মৃ ধরনী বাবুর স্ত্রী সবিতাদেবী । প্রয়াত ধরনী বাবুর বাড়ি ছিল দিনহাটা বলরামপুর রোডের কোয়ালিদহ এলাকায় । উল্লেখ , গত ৮ই নভেম্বর ঠিক রাত আটটা নাগাদ দেশের প্রধান মন্ত্রী এক বিবৃতির মাধ্যমে ঘোষণা করে সেই দিন থেকে পুরোনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বন্ধ করে দেওয়া হলো । তারপর থেকে সারা দেশ জুড়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সামনে পুরোনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এ জমা করার জন্য দীর্ঘ লাইন শুরু হয়ে গিয়েছিল ।তার ব্যাতিক্রম ছিল না শহর দিনহাটা । গত বছরের ১৩ নভেম্বর টাকা তোলার জন্য এটিএমে দীর্ঘসময়লাইন দেওয়ার পর বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বছর ৫৬ র ধরণি বাবু । প্রথমে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল ও পরে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।সেই নার্সিং হোমে ১৫ নভেম্বর সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। দুই ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ছিল সংসার। তাঁর মাস বেতনের টাকা দিয়েই চলত সংসারের যাবতীয় খরচ এবং তার পাশাপাশি ছেলে মেয়ের পড়াশোনা । তারপর থেকে ভৌমিক পরিবারে নেমে আসে বাড়ীর অভিভাবক হারানোর শোকের ছায়া । অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবার । আশ্বাস দেওয়ার পরেও মেলেনি কোনো রকম সাহায্য এমটাই দাবি করছেন পরিবারে লোকেরা । মৃত শিক্ষক ধরনী বাবুর স্ত্রী হাতে ধরণি বাবুর ছবি নিয়ে বলেন , হয়তো তিনি বেচে থাকলে আমাদের এই অবস্থা হতো না । এখন ছেলে মেয়ে বড়ো হয়েছে তাদের পড়াশোনার খরচের পাশিপাশি সংসারের খরচ । এই অবস্থায় তা টেনে উঠতে পারছি না । সরকার থেকে আশ্বাস দিয়েছিল আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি , পরিবারের একজনের চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ এলোনা । ব্যর্থ মন নিয়ে ধরনী বাবুর ছেলে বলেন, সামনে আমরা উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষা বাবা থাকলে হয়তো বাবার কাছ থেকে কিছু সাহায্য নিতে পারতাম বলে তিনি জানান । ধরনীবাবুর মেয়ে বলেন , বাবা আমাকে সব সময় চোখে চোখে রাখতেন । কলেজে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে পরিক্ষার সময় ও নিয়ে যেত কলেজে । আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন , এবার বন্যা থাকায় স্নাতকোত্তরের ফাইনাল পরিক্ষার সময় একটি পরিক্ষা দিতে যেতে পারিনি । কিন্তু যদি বাবা বেঁচে থাকতেন তাহলে কোনো কোনও ভাবে কলেজে নিয়ে যেতে ।
No comments:
Post a Comment