Wednesday, 8 November 2017

বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি সাহায্য ঃ সংকটের মধ্য দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন প্রয়াত ধরনী বাবুর স্ত্রী

মৃত ধরনী বাবুর পরিবারের সদস্য সদস্যারা
শিরোনাম২৪ ডেস্ক,দিনহাটা ঃ মোদী সরকারের এই নোট বন্দীর সিদ্ধান্তের ফলে দিনহাটায় মৃত্যু হয়েছিল হয়েছিল এক স্কুল শিক্ষকের তার নাম ধরণী কান্ত রায় । এই মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও  এখনো মেলেনি কোনো রকম সরকারি সুযোগ সুবিধা । কোনোরকমে আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে সংসার চালোনোর পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন মৃ ধরনী বাবুর  স্ত্রী  সবিতাদেবী ।  প্রয়াত ধরনী বাবুর বাড়ি ছিল  দিনহাটা বলরামপুর রোডের কোয়ালিদহ এলাকায় । উল্লেখ , গত ৮ই নভেম্বর  ঠিক রাত আটটা নাগাদ দেশের প্রধান মন্ত্রী এক বিবৃতির মাধ্যমে ঘোষণা করে সেই দিন থেকে পুরোনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বন্ধ করে দেওয়া হলো । তারপর থেকে সারা দেশ জুড়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সামনে পুরোনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এ জমা করার জন্য দীর্ঘ লাইন শুরু হয়ে গিয়েছিল ।তার ব্যাতিক্রম ছিল  না শহর দিনহাটা । গত বছরের ১৩ নভেম্বর টাকা তোলার জন্য এটিএমে দীর্ঘসময় লাইন দেওয়ার পর বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বছর ৫৬ র  ধরণি বাবু । প্রথমে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল ও পরে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।সেই নার্সিং হোমে  ১৫ নভেম্বর সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।  দুই ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ছিল সংসার। তাঁর মাস  বেতনের  টাকা দিয়েই চলত সংসারের যাবতীয় খরচ এবং তার পাশাপাশি ছেলে মেয়ের পড়াশোনা । তারপর থেকে ভৌমিক পরিবারে  নেমে আসে বাড়ীর অভিভাবক হারানোর  শোকের ছায়া । অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবার । আশ্বাস দেওয়ার পরেও মেলেনি কোনো রকম সাহায্য এমটাই দাবি করছেন পরিবারে লোকেরা । মৃত শিক্ষক ধরনী বাবুর স্ত্রী হাতে ধরণি বাবুর ছবি নিয়ে  বলেন , হয়তো তিনি বেচে থাকলে আমাদের এই অবস্থা হতো না । এখন ছেলে মেয়ে বড়ো হয়েছে তাদের পড়াশোনার খরচের পাশিপাশি সংসারের খরচ । এই অবস্থায় তা টেনে উঠতে পারছি না । সরকার থেকে আশ্বাস দিয়েছিল আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি , পরিবারের একজনের চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ এলোনা । ব্যর্থ মন নিয়ে ধরনী বাবুর ছেলে বলেন, সামনে আমরা উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষা বাবা থাকলে হয়তো বাবার কাছ থেকে কিছু সাহায্য নিতে পারতাম  বলে তিনি জানান । ধরনীবাবুর মেয়ে  বলেন ,  বাবা আমাকে সব সময় চোখে চোখে রাখতেন । কলেজে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে পরিক্ষার সময় ও নিয়ে যেত কলেজে । আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন , এবার বন্যা থাকায়  স্নাতকোত্তরের ফাইনাল পরিক্ষার সময়  একটি পরিক্ষা দিতে যেতে পারিনি । কিন্তু যদি বাবা বেঁচে থাকতেন তাহলে কোনো কোনও ভাবে কলেজে নিয়ে যেতে । 

No comments:

Post a Comment