Sunday, 29 May 2022

72 ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মৃত হস্তি শাবক এর পাশে দাড়িয়ে হাতিরা


আবির ভট্টাচার্য ,ডুয়ার্স, 29 মে:
এক টানা 72 ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মৃত হস্তি শাবক কে আগলে রাখলো হাতির দল। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত মৃত সন্তানের পাশে ঠায় দাড়িয়ে রয়েছে বাবা ও মা হাতি। ঘটনাটি ঘটেছে ডুয়ার্সের বানারহাট ব্লকের ডায়না চা বাগানে। 

 স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত হস্তিশাবক টিকে এক টানা 72 ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একাধিক হাতি আগলে রেখেছে। যে কারণে হস্তিশাবক মৃত্যু তিন দিনের বেশি গড়িয়ে গেলেও বনদপ্তর এর তরফ এ এখনো পর্যন্ত দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও বনদপ্তর এর তরফ এ জোর করে ওই মৃত হস্তি শাবক এর দেহ উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়নি।

  বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এক টানা 72 ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মৃত হস্তিশাবক ডায়না চা-বাগানে পড়ে থাকার কারণে যেকোনো মুহূর্তে পচনের গন্ধ বের হতে পারে। কিন্তু তবুও সন্তানহারা হস্তি শাবক টির মা সহ পুরো হাতির পাল কে জোর করে এলাকা থেকে সরানো পারতপক্ষে একদমই উচিত নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্তা বলেন, জোরপূর্বক হাতিদের সরিয়ে দিয়ে মৃত হস্তি শাবক কে দেহটিকে উদ্ধার করে নিয়ে এলে ওই শাবকটির মা আঘাত পেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে। মূলত সেই কারণেই ওই হস্তিশাবক এর দেহ উদ্ধারে কোন রকম জোর না করে পরিস্থিতির ওপর শুধুমাত্র বনদপ্তর 24 ঘন্টা নজর রেখে চলেছে। ডায়না চা বাগানে সারাক্ষণ বনকর্মীদের নজরদারি চলছে বলে জানা গেছে। 

 বিষয়টি নিয়ে ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। টানা 72 ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মৃত হস্তি শাবক এর দেহটিকে আগলে রেখেছে তার পরিজনেরা। যদিও বনদপ্তর এর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সর্বদা চলছে করা নজরদারি। তিনি আরো বলেন, দেরি করলে মৃত ওই হস্তি শাবক এর দেহে পচন ধরতে পারে। সে কারণে পরিস্থিতি সর্বদা নজরে রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এর ব্যবস্থা করছে বনদপ্তর বলে তিনি উল্লেখ করেন। 





Saturday, 28 May 2022

মৃত হস্তি শাবক কে ৪৮ ঘন্টা পরেও ছারেনি হাতিরা, সমাধিস্তোর ছবি ধরা পরল

 


আবির ভট্টাচার্য, ডুয়ার্স, 28 মে: নজিরবিহীন হস্তিশাবক মৃত্যুর 48 ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দেহটিকে এখনো আগলে রেখেছে হাতিদের বিরাট দল। পাশাপাশি এদিন ফের আরও একটি নজিরবিহীন ঘটনা চিত্র প্রকাশ্যে আসায় আবেগপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি।

 ড্রোন ক্যামেরায় তোলা ওই চিত্রে দেখা গেছে মৃত ওই হাতি শাবকটিকে সমাধিস্থ করেছে হাতির দলটি। কিন্তু সমাধি ওপর দিয়ে হস্তি শাবক এর একটি পায়ের তলা বেরিয়ে আছে। যদিও ড্রোন ক্যামেরার তোলা ওই ছবি নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বনদপ্তর এর আধিকারিকদের । 

ঘটনাটি জানাজানি হতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিভিন্ন মহলে। গতকাল রাত থেকে সকাল বেলা পর্যন্ত চলা বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় হাতিদের দলটিকে। ঘটনার 48 ঘণ্টার বেশি অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরেও বনদপ্তর বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে দেখছে বলে বনদপ্তর সূত্রে খবর। 

প্রসঙ্গত, গতকাল ভোরে ডুয়ার্সের বানারহাট ব্লকে র আম বাড়ি চা-বাগানের থেকে একটি মৃত হস্তি শাবক কে মুখে করে বেশ কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী ডায়না চা বাগানে এসে আশ্রয় নেয় মৃত হস্তি শাবক এর মা। এরপরে দেখা যায় বেশ কয়েক দল হাতি এসে মৃত ওই হস্তি শাবক কে ঘিরে রাখে। বিষয়টি নজিরবিহীন বলে দাবি করে বনদপ্তর এর থেকে শুরু করে প্রত্যক্ষদর্শীরা।


 

এদিন ফের আরও একটি নজিরবিহীন ঘটনা চিত্র প্রকাশ্যে আসায় আবেগপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি।

 ঘটনাটি নিয়ে ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, প্রায় 48 ঘন্টা অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরেও হাতির দলটি কোনভাবেই মৃত ওই হস্তি শাবক থেকে ফেলে রেখে যেতে চাইছে না। আবেগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর সচেতন দৃষ্টি রেখে মানবিকতার কারণে হাতিদের দলটিতে জোর করে জঙ্গলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা উচিত হবে না। তিনি আরো বলেন, যদি জোর করে হাতির দলটিকে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাহলে মৃত ওই হস্তি শাবক এর মা পাগল হয়ে যেতে পারে কিংবা মানুষের প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ানোর বিরাট সম্ভাবনা থেকেই যায়। মূলত সেই সব কারণে হাতির দলকে জঙ্গলে পাঠানোর জন্য কোনরকম জোর করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে সারাক্ষণ বনদপ্তর এর কর্মীরা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে যাতে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি তিনি নিজেও অধিকাংশ সময় ঘটনাস্থলে থাকার চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ করেন। যদিও ড্রোন ক্যামেরায় তোলা ওই চিত্র নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।


 ***চিত্রের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। 

Friday, 27 May 2022

ডুয়ার্সে মৃত সন্তান কে শুরে করে নিয়ে ছুটলো " মা " হাতি

 


আবির ভট্টাচার্য, ডুয়ার্স, 27 মে: নজির বিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল ডুয়ার্সের বাসিন্দারা। মৃত হস্তি শাবক কে শুরে করে আগলে প্রায় কিলোমিটার খানিক নিয়ে যেতে দেখা যায় শুক্রবার সকালে। পরবর্তীতে সেখানে দলকে দল হাতি এসে আগলে রাখে মৃত হস্তিশাবক এর দেহটিকে।

 শুক্রবার সকাল থেকেই ডুয়ার্সের বানারহাট ব্লকের ডায়না চা বাগান ও আমবাড়ি চা বাগানের বাসিন্দারা এমন নজিরবিহীন ঘটনা দেখে ভাবাবেগে জড়িয়ে পড়ে। যদিও ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র বনদপ্তর এর কর্মী ও আধিকারিকরা এলাকাটিকে ঘিরে ফেলে। ঘটনাস্থলে পর্যবেক্ষণ করতে পৌঁছন ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ারর্ডেন সীমা চৌধুরী।

 স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ডুয়ার্সের আমবাড়ি চা বাগান থেকে একটি মা হাতি শুরে করে তার মৃত সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ পথ দৌড়ে পার্শ্ববর্তী ডায়না চা বাগানের দিকে ছুটে যায়। পরবর্তীতে জঙ্গল থেকে কয়েক দল হাতি এসে মৃত হস্তি শাবক কে আগলে রাখতে দেখা যায়। খবর পাওয়া মাত্র বনদপ্তর এর বন্য প্রাণ শাখার কর্মীরা চিকিৎসক সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে হাতির দলের ঘিরে রাখার কারণে উদ্ধার করতে পারেনি। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছানওয়াইল্ড লাইফ ওয়ারর্ডেন সীমা চৌধুরী।

 এদিন ঘটনাস্থলে সীমা চৌধুরী বলেন, এমন আবেগপূর্ণ ঘটনা মনে হয় দেশের ইতিহাসে ঘটেনি বললেই চলে। যেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের বিপদে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় না সেখানে হাতি রা শিখিয়ে দেয় বিপদে কিভাবে পাশে থাকা উচিত। তিনি আরো বলেন, খবর পৌঁছানো মাত্রই বনদপ্তর এর কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে মৃত হস্তি শাবক থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে হাতির দল বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে । সে কারণে হাতির দল গভীর জঙ্গলে ফিরে যাওয়ার পরেই মৃত হস্তি শাবক এর দেহটি বনদপ্তর এর কর্মীরা উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করে মৃত্যুর আসল কারণ জানতে পারবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যে নাবলে হাতির দল জঙ্গলে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই সময় মৃত হস্তি শাবক দেহটি তারা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।